ভারতের অযোধ্যায় শহীদ বাবরী মসজিদের জমিতে আগামী ৫ আগস্ট রাম মন্দির নির্মানের সূচনা করবে দেশটির ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর আগে মসজিদের জমিতে হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মাণের জন্য শিবের পুজো করা হয়। এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রথানুযায়ী ভূমি পূজার জন্য মন্দির নির্মাতা পরিষদ মোদিকে আমন্ত্রণ জানায়।
গত শনিবার (১৮ জুলাই) হিন্দু ট্রাস্ট পরিষদের এর বৈঠক শেষে সংস্থাটির সভাপতি নিত্য গোপাল দাস জানিয়েছেন, মন্দির নির্মাণের জন্য ৫ই আগস্ট মোদি সেখানে যাবেন বলে মৌখিক ভাবে সম্মতি দিয়েছে।
এছাড়াও ভয়েস অফ আমেরিকা ও আনন্দবাজার পত্রিকার খবরের তথ্য মতে মোদির দপ্তর সূত্রেও জানা গিয়েছে যে, ৫ই আগস্ট মন্দির নির্মাণ করতে অযোধ্যায় মোদি যেতে রাজি হয়েছে।
১৯৯২ সালে হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ হওয়া বাবরী মসজিদের জমিতে যে রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে তাতে পাঁচটি চুড়ো বানানে হিন্দু ট্রাস্ট। এই মন্দিরের নির্মাণ ১০ কোটি পরিবারের কাছে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যাবে তারা।
উল্লেখ্য, গত বছর ৫ই অগস্টেই ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কাশ্মীরীদের রায়ের তোয়াক্কা না করে উপত্যকাটির বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা বাতিল করে। আর এ বছরের একই দিনে শহীদ বাবরী মসজিদের জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের সূচনা করবে নরেন্দ্র মোদি।
১৫২৮ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহরে নির্মিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের স্থানকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেবতা রামচন্দ্র বা রামের জন্মভূমি হিসেবে আঠারো শতক থেকে দাবি করা হয়। হিন্দুদের দাবি মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে সেনাপতি মীর বাকী পূর্বে অবস্থিত রামমন্দিরের ওপর বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তবে আদৌ সেখানে রামমন্দির ছিল কিনা বা রামের জন্মভূমি অযোধ্যা ভারতে কিনা- তার ঐতিহাসিক প্রমান মেলেনি।
১৯৯২ সালে হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর বাবরি মসজিদের জমিটিকে হিন্দুদের জন্য রাম মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেয় ৫ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ। তবে বাবরি মসজিদের জমিটি হিন্দুদের দেবতা রামের জন্মভূমি ছিলো বলে যে দাবি করা হয়, আদালতে তার প্রমাণ মেলেনি। মানুষের বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে এই রায় দেয়া হয়।
এদিকে ভারতের অযোধ্যা শহরকে রামের জন্মভূমি হিসেবে যে দাবি করা হয়, গত সোমবার (১৩ জুলাই) ‘ভানু জয়ন্তী’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। তিনি বলেন, রামচন্দ্র ভারতীয় ছিলেন না। আর জন্মস্থান অযোধ্যা ভারতে নয়, নেপালে। ভারত সাংস্কৃতিক সীমালঙ্ঘনের জন্য নকল অযোধ্যার নির্মাণ করেছে। আসল অযোধ্যা আমাদের নেপালে আছে।
সূত্র: ভয়েস অফ আমেরিকা ও আনন্দবাজার

0 মন্তব্যসমূহ
A New Comment
Emoji